
একটি পথসভাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় চারজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জন গুলিবিদ্ধ। পুলিশ ১৪ জনকে আটক করেছে।
ঘটনার শুরু
সকাল ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির পথসভার প্রস্তুতি শুরু হয়। মঞ্চ তৈরি ও চেয়ার সাজানোর কাজ চলছিল। এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মাইকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টায় পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরানো এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে তখনো মঞ্চের পরিস্থিতি শান্ত ছিল।
হামলা ও সংঘর্ষ
দুপুর ১২টার দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা আসার কথা থাকলেও হামলার শঙ্কায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। বেলা ১টায় বৃষ্টির কারণে নেতা-কর্মীরা মঞ্চ ছেড়ে পাশে আশ্রয় নেন। বৃষ্টি কমলে বেলা ১টা ২৫ মিনিটে তারা আবার মঞ্চে ফিরে আসেন। এ সময় ৫০-৬০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও বাঁশ নিয়ে এসে মঞ্চে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ ও এনসিপির কর্মীরা পাশের কোর্ট চত্বরে আশ্রয় নেন। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে আরও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
পথসভা শেষ ও আরও হামলা
বেলা ২টা ৪০ মিনিটে এনসিপির পথসভা শেষ হয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেন। সভা শেষে নেতা-কর্মীরা গাড়িতে ওঠার সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে হামলাকারীরা আবার এগিয়ে আসে। পুলিশ লাঠি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এর মধ্যে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা আশ্রয় নেন।
তথ্যের উৎস
এই ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী, সংবাদকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য পাওয়া গেছে।